• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ১লা বৈশাখ ১৪৩৩ রাত ০৮:০৫:৩৯ (14-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:

বৈশাখী উৎসবে নেই জৌলুস, উপজেলা প্রশাসনের অব্যবস্থাপনায় হতাশ এলাকাবাসী

১৪ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৪:১২:২২

বৈশাখী উৎসবে নেই জৌলুস, উপজেলা প্রশাসনের অব্যবস্থাপনায় হতাশ এলাকাবাসী

সাইদুর রহমান, মিরপুর প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় এবারের পহেলা বৈশাখ উদযাপন ঘিরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও অসন্তোষ। যেখানে বিগত বছরগুলোতে জাঁকজমকপূর্ণ, প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক আয়োজনের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে, সেখানে এবারের অনুষ্ঠান ছিল অনেকটাই অনাড়ম্বর, অগোছালো ও হতাশাজনক এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়নি, যা উপস্থিত অনেকের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসের আয়োজনে এমন অবহেলা কতটা গ্রহণযোগ্য তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।

Ad
Ad

এছাড়া অনুষ্ঠানে আগত মিরপুর প্রেসক্লাবের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোনো বসার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এতে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নিজেদের অবমূল্যায়িত মনে করেন। এমন পরিস্থিতিতে মিরপুর প্রেসক্লাবের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধারা অনুষ্ঠান বর্জন করে চলে যান, যা পুরো আয়োজনকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে।

Ad

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছাড়া দলটির অন্য কোনো নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। একই সঙ্গে পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী খাবার, পিঠা-পুলি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের তেমন কোনো আয়োজন ছিল না, যা উপস্থিত অনেকের মধ্যেই অসন্তোষের জন্ম দেয়।

সচেতন মহলের সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন, যেখানে বিগত বছরগুলোতে ব্যাপক আয়োজন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, অতিথি আপ্যায়নসহ উৎসবমুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপন হয়েছে, সেখানে এবারের এমন দুর্বল ও অসংগঠিত আয়োজন কেন?

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নজরুল করিম বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাদেরকে দাওয়াত করেছিলেন। আমরা র‍্যালিতে অংশ নিয়ে আলোচনা সভায় না বসে চলে আসি। দেখলাম মিরপুর প্রেসক্লাবের সদস্যরাও চলে যাচ্ছেন। তবে আগের বছরের তুলনায় এবারের আয়োজনে স্পষ্ট অসংগতি ছিল। মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মারফত আফ্রিদিও একই ধরনের মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, সরকারি নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন যদি সরকারি নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকে, তাহলে আগের বছরগুলোতে কীভাবে এত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন সম্ভব হয়েছিল?

এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আশরাফুজ্জামান শাহীন বলেন, আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের সবাইকেই দাওয়াত করা হয়েছিল। আমি উপস্থিত ছিলাম, তবে অন্যরা কেন আসেননি তা আমার জানা নেই।

এদিকে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকলেও শুরুতে র‍্যালিতে অংশ নিতে পারেননি। পরে অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি বক্তব্য প্রদান করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সবমিলিয়ে, একটি সর্বজনীন ও ঐতিহ্যবাহী উৎসবের এমন অনাড়ম্বর ও সমন্বয়হীন আয়োজন স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন যেন আগের মতোই সুশৃঙ্খল, সমন্বিত ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় এটাই এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ



জাতীয় প্রেস ক্লাবে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ
জাতীয় প্রেস ক্লাবে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ
১৪ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:৪১:০৩









Follow Us