• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ৩০শে চৈত্র ১৪৩২ রাত ০৮:৪০:২৭ (13-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রায়ে পরিবার ও সহপাঠীদের অসন্তোষ

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রায়ে পরিবার ও সহপাঠীদের অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন।রায় ঘোষণার পর আবু সাঈদের পরিবার ও সহপাঠীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার নিজ বাড়িতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট নই। আরও কয়েকজনের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল।’তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে তুলনামূলক কম সাজা দেওয়া হয়েছে।আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম মূল হোতাদেরও ফাঁসি হবে। কিন্তু তা হয়নি, তাই আমরা খুশি নই।’একইভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সহপাঠীরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, ‘দুজনের ফাঁসি হলেও বাকিদের লঘু দণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।’মামলার সাক্ষী ও শিক্ষার্থী আরমান হোসেন বলেন, ‘আসামিদের ভূমিকার তুলনায় শাস্তি কম হয়েছে। আমরা আশা করি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে।’তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকাত আলী বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রায় হওয়াটাই ইতিবাচক, যদিও শাস্তির মাত্রা নিয়ে পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন আবু সাঈদ। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং তা আন্দোলনের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলে।মামলাটিতে গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে ৬ আগস্ট অভিযোগ গঠন এবং ২৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় এবং ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল।