• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ৩০শে চৈত্র ১৪৩২ রাত ০৮:৪৫:২২ (13-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:
বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার কাজ চলছে: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার কাজ চলছে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশকে আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।১০ এপ্রিল শুক্রবার সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান।অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার ইতোমধ্যে শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং মূলধন পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তবে জনগণের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার ভর্তুকি দিয়ে হলেও জ্বালানির মূল্য সমন্বয় থেকে বিরত থাকে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকার প্রস্তুত বলে জানান তিনি।বিগত সরকারের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় বাজেট ঘাটতি বেড়েছে। বিশেষ করে মেগা প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় হলেও জনগণ প্রত্যাশিত সুফল পায়নি।তিনি আরও বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮.৩ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬.৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট ও বিনিয়োগ মন্থরতার প্রতিফলন। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি এবং ফাঁকি ও অপচয়ের কারণে সরকারের সম্পদ আহরণ সক্ষমতা সীমিত থেকেছে।অর্থমন্ত্রী জানান, বাজেট ঘাটতি ২০০৫-০৬ অর্থবছরের ২.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.০৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অতিমূল্যায়িত মেগা প্রকল্প ও যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অভাবে জনগণ প্রত্যাশিত সুবিধা পায়নি এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে।তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে টাকার মান প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যার ফলে আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। একই সঙ্গে দুর্নীতির কারণে অর্থনৈতিক বৈষম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হয়েছে। হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের কারণে দেশে প্রত্যাশিত রেমিট্যান্সও আসেনি।তিনি উল্লেখ করেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রায় সব অর্থনৈতিক সূচকই নিম্নমুখী ছিল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।