• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ৩০শে চৈত্র ১৪৩২ রাত ০৮:৩৯:২১ (13-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করলেন চার শিল্পী

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করলেন চার শিল্পী

বিনোদন ডেস্ক: তারকাশিল্পী। তবে মূল নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না পেলেও সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন চার শিল্পী। তারা হলেন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়িকা কনকচাঁপা, বেবী নাজনীন, কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীন ও নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী। গত শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়। জানা গেছে, গতকাল শনিবার মনোনয়ন সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন কনকচাঁপা। তিনি সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর) আসনের জন্য মনোনয়নপত্র কিনেছেন। নন্দিত এই গায়িকা জানান, দলে দীর্ঘদিনের নিষ্ঠার কথা বিবেচনায় নিয়ে দলের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। একই সঙ্গে দলের যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।এদিকে বেবী নাজনীন নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ) আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন এবং তিনি আজ রবিবার ফরম জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর বেবী নাজনীন জানান, দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক আনুগত্য এবং দেশের নতুন প্রজন্মকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য থেকেই তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত গত ৪০ বছর ধরে মেনে আসছি, ভবিষ্যতেও আসব। দেশ ও নতুন প্রজন্মের জন্য কাজ করতে চাই।’রিজিয়া পারভীন নিজ জেলা কিশোরগঞ্জ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আবেদন করেছেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন সংগীত অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এবার সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নিয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আমার বাড়ি কিশোরগঞ্জ। সেখান থেকেই নির্বাচিত হতে চাই। আমি নারীদের জন্য কাজ করতে চাই, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।’একজন শিল্পী হিসেবে সংস্কৃতি অঙ্গনের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে চান উল্লেখ করে রিজিয়া পারভীন বলেন, ‘সংস্কৃতি নিয়েও কাজ করতে চাই। এরই মধ্যে আমার এলাকায় কিছু কাজ করেছি। মনোনয়ন পেলে নারীদের উন্নয়ন ও সংস্কৃতি খাতে বেশি গুরুত্ব দেব।’ সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত হলে কোনো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবেনএমন প্রশ্নের জবাবে এই গায়িকা জানান, নারী অধিকার এবং সংস্কৃতি খাতই হবে তার প্রধান কাজের ক্ষেত্র। সংগীত অঙ্গন থেকে রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখা এই শিল্পীর নতুন যাত্রা ঘিরে এরই মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় থাকা নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবীর রাজনীতিতে সরব উপস্থিতি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ময়মনসিংহের ভালুকার ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী পরিবারের সন্তান। পারিবারিকভাবেও তিনি একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারক। তিনি বিএনপির বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ময়মনসিংহ-১১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ চৌধুরীর কন্যা। পরিবারের রাজনৈতিক আদর্শ ও জনসম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় জনগণের সেবা করার প্রত্যয় থেকেই নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন তিনি।এ ছাড়া তার মা মরহুমা রাহিজা খানম ঝুনুও (একুশে পদকপ্রাপ্ত) জাসাসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পারিবারিক এই পটভূমি তার রাজনৈতিক যাত্রাকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের মাধ্যমে ফারহানা চৌধুরী বেবী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তার সমর্থকদের আশা, দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবেন।