দেশ যে পথে হাঁটছে, তাতে সরকার আমাদের সুখকর বার্তা দিচ্ছে না
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ার পর দেশের ব্যাংকিং খাত, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নতুন সংযোজিত ১৮(ক) ধারা ঘিরেই এই বিতর্কের মূলকেন্দ্র তৈরি হয়েছে।সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুক লাইভে এ নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেছেন।তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশের শীর্ষ ২০টা ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দেওয়ার জন্য আমি সংসদে প্রশ্ন করেছিলাম। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু সাহেব সংসদে ২০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়েছেন। এই ২০টার মধ্যে ৯টি এস আলমের প্রতিষ্ঠান। তাদেরকে আবার ব্যাংকে ফেরত আনার জন্য আইন পাস করা হলো। এটি বাংলাদেশের জন্য কালো দিন।”১২ এপ্রিল রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক লাইভে বিএনপি সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন তিনি।ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, “জুলাইয়ে যারা আত্মত্যাগ করেছিল তারা রাষ্ট্রের স্ট্রাকচারাল রিফর্মের জন্য। কিন্তু রাষ্ট্রের কোনো স্ট্রাকচারাল রিফরমেশন হচ্ছে না। সংখ্যাগরিষ্ঠতা কখনোই ভালো কিছু নিয়ে আসে নাই, আপনারা (বিএনপি) আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন।”তিনি বলেন, “এখন বিএনপি মেজরিটি। সংসদে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। সংসদের আইন কোনটা কী, সেটা সরকার যেভাবে চাইবে সেভাবেই হয়। বাংলাদেশ যে পথে হাঁটছে, তাতে বিএনপি আমাদের সুখকর বার্তা দিচ্ছে না।”সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যে কয়টি সংস্কার এই সংসদে পাস হওয়ার কথা ছিল, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ সংস্কার কমিশন। অথচ এই কমিশনটির প্রস্তাব সংসদে ওঠানোই হয় নাই। আলোচনার জন্য তার প্রয়োজন আছে কি না, বা কতটা প্রয়োজন জনগণের জন্য এটা নিয়ে আলোচনা করার জন্য সংসদে ওঠানো হয় নাই।”তিনি আরও বলেন, “আমাদের অনেক সংসদ সদস্য আছেন বিএনপির মন্ত্রীদেরকে রাগাতে চান না। মনে করেন, এলাকার বাজেট বন্ধ করে দেবে, উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে। তার সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে কী লাভ? আবার সম্পর্ক ভালো রেখেও কী লাভ?”ফেসবুক লাইভে তিনি আরও বলেন, “আমার এলাকার বাজেট বন্ধ করে দেবেন, দিয়েন। আমার এলাকার উন্নয়ন বন্ধ করে দিতে চান, দেন। পুলিশ যেন আমাদেরকে সহায়তা না করে ফোন দিয়ে বলে দেবেন, দেন। আপনি অ্যাডমিনকে বলে দেবেন, হাসনাতের এলাকায় যেন হাসনাতকে সহায়তা না করা হয়, দেন। দিন শেষে আমি এটা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের জনগণ আমাদের পক্ষে আছে।”